দুর্গাপূজার সুর: ঢাকের বোল থেকে আধুনিক গান
মহালয়ার ভোর থেকে দশমীর বিসর্জন — প্রতিটি পর্বের নিজস্ব সুর আছে। সেই সুরের সন্ধানে।
আগমনী: দেবীর আসার গান
পূজা শুরুর আগেই সুর বেজে ওঠে। মহালয়ার ভোরে বাংলার ঘরে ঘরে বাজে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে “মহিষাসুরমর্দিনী” — চণ্ডীপাঠ আর আগমনী গানের এই মিশেল আজও দুর্গাপূজার সবচেয়ে পরিচিত সুর। এই গান পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা বলা যায়, যদিও পূজা শুরু হতে তখনও দিন সাতেক বাকি।
মহালয়ার ভোরে আকাশবাণী চালু হওয়ার শব্দ যেন এখনো বাঙালির কাছে পূজা আসার প্রথম ঘণ্টা।
- যা দেবী সর্বভূতেষু — চণ্ডীপাঠের সূচনা মন্ত্র, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে শুনুন →
- বাজলো তোমার আলোর বেণু — মহিষাসুরমর্দিনীর অন্যতম পরিচিত সুর শুনুন →
- জাগো তুমি জাগো — দেবীকে জাগরণের আহ্বান জানানো গান শুনুন →
লিঙ্কগুলো নির্দিষ্ট ভিডিওর বদলে YouTube সার্চ পেজে নিয়ে যায় — যেটা যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ উপায়, যাতে ভুল বা ভাঙা লিঙ্ক না থাকে।
রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতি
শারদ ভাবধারার সঙ্গীত
পূজা মণ্ডপের পরিবেশে প্রায়ই ভেসে আসে রবীন্দ্রনাথের শরৎ-বিষয়ক গান, যেখানে কাশফুল আর শিউলির মতোই আছে দেবীর আবাহনের ইঙ্গিত। নজরুলগীতির মধ্যেও শ্যামাসঙ্গীত ও শক্তি আরাধনার গান পূজার পরিবেশে জায়গা করে নেয়, বিশেষত সন্ধ্যার আরতির আগে-পরে।
পুজোর গান: হারানো ঐতিহ্য
এক সময় পূজা মানেই ছিল নতুন গানের অপেক্ষা। রেকর্ড কোম্পানিগুলো পূজা উপলক্ষে নতুন গান বাজারে আনত, আর শ্রোতারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। এই ঐতিহ্যে জড়িয়ে আছেন বাংলা গানের কিংবদন্তিরা:
- শচীন দেব বর্মণ — পুজোর গানের সোনালি যুগের অন্যতম কারিগর
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় — গম্ভীর, আবেগময় কণ্ঠের জন্য পরিচিত
- লতা মঙ্গেশকর ও কিশোর কুমার — বাংলা ও অবাংলা শ্রোতার সেতুবন্ধন
- আরতি মুখোপাধ্যায় — মিষ্টি কণ্ঠে বহু কালজয়ী পুজোর গান
এই গানগুলো আজও পূজার সময় বেজে ওঠে, স্মৃতির সুতোয় বাঁধা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে।
ঢাক, কাঁসর ও আরতি সঙ্গীত
সব গানের বাইরেও একটা শব্দ আছে যা ছাড়া দুর্গাপূজা অসম্পূর্ণ — ঢাকের বোল। ঢাকি যখন কাঠি হাতে তালে তালে বোল তোলেন, সেটাই পূজার আসল স্পন্দন। সন্ধ্যা আরতির সময় শঙ্খধ্বনি, কাঁসর আর মন্ত্রোচ্চারণের সাথে মিলিয়ে যে ছন্দ তৈরি হয়, তা গান না হয়েও পূজার সবচেয়ে শক্তিশালী সুর।
এখনকার মণ্ডপে
সময়ের সাথে সাথে মণ্ডপের সাউন্ডস্কেপও বদলেছে। এখন প্যান্ডেল হপিং-এর সময় বাংলা ব্যান্ডের গান, হালের বাংলা-হিন্দি হিট, এমনকি ইংরেজি পপও বাজতে শোনা যায়। তবে সন্ধ্যা আরতির সময়টা এখনও অনেকটাই ঐতিহ্যের — ঢাক, শঙ্খ, আর পুরনো দিনের আগমনী সুর ফিরে আসে নিজের জায়গায়।

